চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজার শ্যালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এমপির শ্যালক আবু বকর সিদ্দিক এবং গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুরে একটি কর্মসূচি শেষে সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক একটি গাড়িতে এবং তিনি তার বোনসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য একটি গাড়িতে জীবননগরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে হাসাদাহ বাজার এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক তাদের গাড়ির সামনে ধীরগতিতে চলতে থাকে। একাধিকবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি রাস্তা না ছাড়ায় গাড়িচালক নিচে নেমে চালকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ইজিবাইকচালক বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আবু বকর সিদ্দিকের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা হামলা চালায়। তিনি নিজেকে সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও হামলাকারী রিমন, মোস্তাকসহ তিনজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার মুখে আঘাত করে। এ সময় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের দোসর বলেও দাবি করেন আবু বকর।
আহত গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন জানান, হাসাদাহ বাজার এলাকায় পৌঁছালে পাশে একটি লোকাল বাস এবং একটি ইজিবাইক যাত্রী ওঠানো-নামানো করছিল। হর্ন দেওয়ার পরও পথ না পেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন তিনি। পরে আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ইজিবাইকচালককে রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠানো-নামানোর বিষয়ে বললে এমপির গাড়ির স্টিকার দেখে কয়েকজন ব্যক্তি হামলা চালায়। এতে তিনি ও আবু বকর সিদ্দিক আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, আমরা কর্মসূচি শেষে জীবননগরের উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। আমার শ্যালক ও স্ত্রী ছিলেন এক গাড়িতে, আমি ছিলাম পেছনের গাড়িতে। ফোনে বিষয়টি জানার পর থানা পুলিশকে অবহিত করি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি রিমন, মোস্তাকসহ তিনজন আমার চালক ও শ্যালকের ওপর চড়াও হয়। আমার শ্যালককে মেরে রক্তাক্ত করেছে, চালককেও মেরেছে। জানতে পেরেছি রিমন যুবলীগ করে, অর্থাৎ আওয়ামী লীগের দোসর। আমার গাড়িতে সংসদ সদস্যের স্টিকার ও আমার নাম পর্যন্ত লেখা আছে, তবুও এ হামলা করেছে। পরে তারা মাফ চেয়েছে। তবে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, তাই আমরা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, সংসদ সদস্য আমির হামজার ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে তার শ্যালককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি থানায় এসেছেন এবং এজাহার গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

